1. fansporosh@gmail.com : fansporosh@gmail.com :
  2. lkjoypr@gmail.com : lkjoypr@gmail.com lkjoypr@gmail.com : lkjoypr@gmail.com lkjoypr@gmail.com
  3. shawonhossainbd101@gmail.com : shawonhossain :
  4. admin@vokta.tv : admin :
  5. Voktatv765@gmail.com : Voktatv765@gmail.com :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মিয়ানমারের দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা বলেছে, ২০১৬–১৭ সালে সংঘটিত জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি উত্থাপন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছে।

এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এ ধরনের বক্তব্যকে সুপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেই সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে।

প্রাচীন আরাকানের রাজধানী মায়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং, যা রোহাউং নামেও পরিচিত, সেখানে তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের রোশাং বা রোহাং এবং বৃহত্তর বাংলার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে নামের সংযোগ তৈরি হয়।

শুরুতে এটি ছিল একটি বহির্নাম মাত্র। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক আমলের জনতাত্ত্বিক নথি এবং বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণায় রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বঞ্চিত হলেও ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে ‘বাঙালি’ বলে চিহ্নিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের জন্য অনুকূল প্রেক্ষাপট তৈরি করা।

যদিও রোহিঙ্গা ভাষার সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার কিছু মিল রয়েছে, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে তারা একটি স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী।

বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

এমনকি ২০১৭–১৮ সালেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে মিয়ানমার রাখাইনে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তাকে রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে বাংলাদেশ সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল, মিয়ানমারের এমন দাবিকে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2024

Designed & Developed by Raytahost