
মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশুটির চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে।
গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকার শিশু হুজাইফা।
এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার মস্তিষ্কে গুলি রয়ে গেছে। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কথা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদের সঙ্গে।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা আগের মতোই। কিছুক্ষণ পর মেডিকেল বোর্ড বসবে। খুলি খুলে রাখা একটি মেডিক্যাল প্রসিডিউর, এটি চিকিৎসার অংশ।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী।
অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী টেকনাফের গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারে লোকজনের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।
হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘গত শনিবার সারা রাত গোলাগুলির শব্দে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিল। আমরাও ঘরের ভেতরে ছিলাম। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখে আমি ঘর থেকে বের হই।
এর কিছুক্ষণ পর আমার ভাতিজিও খেলতে বের হয়। এ সময় সে সড়কের কাছাকাছি চলে আসে। তখনই আবার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। তখন একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়।’
All rights reserved © 2024
Leave a Reply