
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি তার প্রাপ্ত নোবেল শান্তি পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) ফক্স নিউজে সিন হেনিতিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন মাচাদো। একই পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পও চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি পুরস্কারটি মাচাদোর হাতেই তুলে দেয়।
সে সময় নিজ দেশে আত্মগোপনে থাকলেও পুরস্কার গ্রহণ করতে তিনি গোপনে নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাচাদো নোবেল গ্রহণ করায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হন। এ কারণেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতাচ্যুত করলেও মাচাদোকে কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেননি ট্রাম্প।
যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বেই বিরোধী দল জয় পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টকে হোয়াইট হাউজের দুই কর্মকর্তা জানান, নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে মাচাদো কার্যত ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছেন।
তাঁদের দাবি, যদি মাচাদো নোবেল গ্রহণ না করে এটি ট্রাম্পের প্রাপ্য বলে ঘোষণা দিতেন, তাহলে তিনিই আজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন। এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, নোবেল গ্রহণ করে মাচাদো ‘ভুল’ করেছেন, যার ফলেই তিনি ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে মাচাদো বলেন, এখনো তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে পুরস্কারটি দেননি। তবে সুযোগ পেলে তিনি ট্রাম্পকে জানাতে চান যে, এই পুরস্কার ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং তারা সেটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স ভেনেজুয়েলা থেকে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তারা দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
তবে ট্রাম্প সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা শাসনের মতো গ্রহণযোগ্যতা মাচাদোর নেই এবং দেশটির জনগণ তাকে যথেষ্ট সম্মান করে না।
মাচাদোর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের এ বক্তব্যে তিনি বিস্মিত ও একই সঙ্গে মর্মাহত হয়েছেন।
All rights reserved © 2024
Leave a Reply